আইন ও সরকারি তথ্য সর্বশেষ যাচাই: ২৬ জুলাই ২০২৬

বেতন বা ওভারটাইম না পাওয়া, বেআইনিভাবে চাকরি শেষ করা, ছুটি না দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, হয়রানি, দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তাহীন পরিবেশ—এ ধরনের সমস্যায় একজন শ্রমিক কোথায় অভিযোগ করবেন, তা অভিযোগের ধরন ও চাওয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর করে। শুধু ফোন করা, DIFE-তে অনলাইন অভিযোগ করা এবং শ্রম আদালতে আইনি অভিযোগ করা একই প্রক্রিয়া নয়।

সংক্ষেপে উত্তর

বাংলাদেশ শ্রম আইনের আওতাভুক্ত কোনো কারখানা, দোকান বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক টোল-ফ্রি ১৬৩৫৭ নম্বরে ফোন করতে পারেন, DIFE-এর LIMA পোর্টালে অনলাইন অভিযোগ করতে পারেন, অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত DIFE জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। চাকরিচ্যুতি বা চাকরি-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রতিকার চাইলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩-এর সময়সীমা মেনে আগে মালিককে লিখিত অভিযোগ এবং প্রয়োজন হলে শ্রম আদালতে অভিযোগ করতে হয়। জরুরি জীবনঝুঁকি বা অপরাধ হলে ৯৯৯/পুলিশের সহায়তাও আলাদাভাবে নিতে হবে।

যে ৭টি বিষয় আগে মনে রাখবেন
  • DIFE-এর পূর্ণরূপ হলো Department of Inspection for Factories and Establishments—বাংলায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।
  • DIFE শ্রম হেল্পলাইন ১৬৩৫৭ টোল-ফ্রি; DIFE অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য কোনো ফি নেয় না।
  • অনলাইন অভিযোগের সরকারি ঠিকানা: lima.dife.gov.bd/complaint
  • অনলাইনে অভিযোগ করার পর পাওয়া অভিযোগ সনাক্তকরণ নম্বর ছবি তুলে ও লিখে রাখুন।
  • বেনামি অভিযোগ করা যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত বেতন-পাওনা বা ব্যক্তিগত প্রতিকার তদন্তে পরিচয় প্রয়োজন হতে পারে।
  • DIFE-তে অভিযোগ করলেই ধারা ৩৩-এর মালিককে নোটিশ বা শ্রম আদালতের মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যায় না।
  • EPZ এলাকার শ্রমিকদের জন্য আলাদা আইন ও BEPZA/EPZ শ্রম আদালতের ব্যবস্থা প্রযোজ্য।

কোন সমস্যায় কোথায় অভিযোগ করবেন?

সঠিক জায়গায় অভিযোগ করলে সময় নষ্ট কম হয়। নিচের তিনটি পথের উদ্দেশ্য আলাদা:

DIFE / ১৬৩৫৭ শ্রম আইন মানা হচ্ছে কি না, বেতন-পাওনা, কর্মঘণ্টা, ছুটি, নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা, মাতৃত্ব সুবিধা, হয়রানি বা চাকরির শর্ত নিয়ে পরিদর্শন ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য।
মালিককে লিখিত অভিযোগ চাকরিচ্যুতি বা অধ্যায়-২ সম্পর্কিত অভিযোগে ধারা ৩৩-এর আইনি প্রতিকার চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম ধাপ।
শ্রম আদালত মালিকের সিদ্ধান্ত না পাওয়া বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হওয়া, আইনগত অধিকার বাস্তবায়ন, পুনর্বহাল/পাওনা/অন্যান্য আদেশের মতো বিচারিক প্রতিকার চাইলে।
সমস্যা প্রথমে কোথায় যাবেন বিশেষ সতর্কতা
বেতন, ওভারটাইম, ছুটির টাকা, সার্ভিস বেনিফিট বা অন্য পাওনা DIFE ১৬৩৫৭, LIMA অনলাইন অভিযোগ বা জেলা কার্যালয় মাসভিত্তিক পাওনার হিসাব ও প্রমাণ দিন; LIMA-তে ধারা ১২৪(ক)-এর আপস নিষ্পত্তির প্রশ্নটি বুঝে নির্বাচন করুন।
বরখাস্ত, অপসারণ, ডিসচার্জ, ছাঁটাই বা চাকরি অবসান নিয়ে প্রতিকার দ্রুত লিখিতভাবে মালিককে অভিযোগ; প্রয়োজনে DIFE ও শ্রম আদালত ধারা ৩৩-এর ৩০ দিনের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ—শুধু DIFE অভিযোগ করে অপেক্ষা করবেন না।
কর্মঘণ্টা, ছুটি, মাতৃত্ব সুবিধা, শিশু শ্রম, নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্য DIFE কারখানার নাম, সঠিক ঠিকানা, শিফট, তারিখ ও ঘটনার স্থান স্পষ্ট করুন।
কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, যৌন হয়রানি বা গালাগালি DIFE; প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ কমিটি থাকলে সেখানেও জীবনঝুঁকি, হামলা বা অপরাধ হলে পুলিশ/৯৯৯-এর সাহায্য আলাদাভাবে নিন।
EPZ-এর ভেতরের কারখানা BEPZA/সংশ্লিষ্ট EPZ কর্তৃপক্ষ ও EPZ শ্রম আদালত এই DIFE গাইডের বদলে EPZ শ্রমিক অভিযোগ গাইড দেখুন।
খুব গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

DIFE অভিযোগ হলো শ্রম আইন পরিপালন যাচাই ও প্রশাসনিক তদন্তের পথ। ধারা ৩৩-এর লিখিত অভিযোগ হলো নির্দিষ্ট চাকরি-সংক্রান্ত প্রতিকারের আইনি পূর্বধাপ। আর শ্রম আদালতে অভিযোগ হলো বিচারিক প্রক্রিয়া। একটি করলেই অন্য দুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয় না।

DIFE কোন ধরনের শ্রমিক অভিযোগ গ্রহণ করে?

DIFE-এর সরকারি LIMA ফরমে বর্তমানে নিচের বিষয়গুলো অভিযোগের ধরন হিসেবে রয়েছে:

  • অন্যায়ভাবে বরখাস্ত ও কর্মক্ষেত্রে বিরোধ;
  • বেতন, মজুরি, ওভারটাইম ও অন্যান্য পাওনা আদায়;
  • কর্মঘণ্টা, ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধ;
  • নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি;
  • পেশাগত দুর্ঘটনা ও ক্ষতিপূরণ;
  • পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য;
  • মাতৃকল্যাণ সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা;
  • কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, দুর্ব্যবহার/গালাগালি ও যৌন হয়রানি;
  • শিশু ও কিশোর শ্রমিক, শিশু শ্রম;
  • সার্ভিস বেনিফিট, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা ও সেইফটি কমিটি;
  • উপরের তালিকায় না থাকলে “অন্যান্য”।

ফরমটি বাংলাদেশ শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালার আওতাভুক্ত কারখানা, প্রতিষ্ঠান বা দোকান সম্পর্কিত অভিযোগের জন্য। ভিত্তিহীন বা আইনবহির্ভূত অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো তথ্য বানিয়ে লেখা বা সম্পাদিত ভুয়া প্রমাণ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

অভিযোগ করার আগে কোন তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করবেন?

সব কাগজ না থাকলেও অভিযোগ করা বন্ধ করবেন না। যা আছে তা নিরাপদে কপি করে রাখুন এবং যা নেই তা সত্যভাবে উল্লেখ করুন।

আপনার পরিচয় ও চাকরির তথ্য

  • পূর্ণ নাম, মোবাইল নম্বর ও বর্তমান ঠিকানা;
  • শ্রমিক আইডি/কার্ড নম্বর, পদবি, বিভাগ ও শিফট;
  • চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং চাকরি শেষ হলে শেষ তারিখ;
  • নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই বা উপস্থিতির কপি—যা পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিচয়

  • কারখানা/প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নাম;
  • বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, এলাকা, সড়ক ও বাড়ি/হোল্ডিং;
  • মালিক, ব্যবস্থাপক, HR বা অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম/পদবি—জানা থাকলে;
  • একই নামে একাধিক কারখানা থাকলে ইউনিট/বিল্ডিং/গেটের তথ্য।

ঘটনা ও দাবির প্রমাণ

  • ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান ও কার সামনে ঘটেছে;
  • বেতন শিট, পে-স্লিপ, ব্যাংক/MFS লেনদেন, হাজিরা, ছুটির আবেদন;
  • চাকরিচ্যুতির চিঠি, শোকজ, জবাব, গেট পাস বন্ধের ছবি বা বার্তা;
  • SMS, ই-মেইল, WhatsApp বার্তা, ছবি, ভিডিও বা চিকিৎসার কাগজ;
  • মাসভিত্তিক পাওনার হিসাব: কোন মাস, কী পাওনা, কত টাকা;
  • সাক্ষী থাকলে নাম ও যোগাযোগ—তাঁর সম্মতি নিয়ে।
কম ইন্টারনেট বা মোবাইল ব্যবহারকারীর জন্য সহজ প্রস্তুতি

মোবাইলের Notes-এ আগে চারটি শিরোনাম লিখুন: কোথায়—কবে—কী হয়েছে—আমি কী সমাধান চাই। তারপর নথির পরিষ্কার ছবি তুলুন। ফাইলের নাম দিন “বেতন-মার্চ-২০২৬”, “বরখাস্ত-পত্র-১২-জুলাই” ইত্যাদি। এতে অনলাইন ফরম পূরণ সহজ হবে।

DIFE-তে অনলাইনে শ্রমিক অভিযোগ কীভাবে করবেন?

সরকারি LIMA অভিযোগ ফরম ব্যবহার করে ঘরে বসেই অভিযোগ দাখিল করা যায়। কোনো দালাল বা ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

  1. সরকারি লিংক খুলুন: ব্রাউজারে lima.dife.gov.bd/complaint লিখুন। ডোমেইনের শেষে gov.bd আছে কি না দেখুন।
  2. আদালতে বিচারাধীন কি না জানান: একই বিষয় কোনো আদালতে চলমান থাকলে “হ্যাঁ” নির্বাচন করুন; তথ্য গোপন করবেন না।
  3. নিজের তথ্য দিন: নাম, লিঙ্গ, জেলা, উপজেলা/থানা, ঠিকানা, মূল ও বিকল্প মোবাইল নম্বর দিন। ই-মেইল ও NID ফরমে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখা যায়।
  4. চাকরির অবস্থান লিখুন: অভিযোগকারীর ধরন, আইডি/কার্ড নম্বর, পদবি, যোগদানের তারিখ এবং চাকরি শেষ হলে তারিখ দিন।
  5. ইউনিয়নের তথ্য দিন: ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে অভিযোগ হলে সংশ্লিষ্ট ঘর পূরণ করুন; না হলে “না” নির্বাচন করুন।
  6. প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য দিন: নাম, বিভাগ, জেলা, থানা, পূর্ণ ঠিকানা এবং যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর পরিচয় জানা থাকলে লিখুন।
  7. অভিযোগের ধরন বাছুন: যেমন “বেতন/মজুরি ও পাওনা আদায়”, “অন্যায়ভাবে বরখাস্ত”, “কর্মঘণ্টা ও ছুটি” বা “কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা”।
  8. বিস্তারিত ঘটনা লিখুন: তারিখ অনুযায়ী ছোট অনুচ্ছেদে কী ঘটেছে, কত টাকা বাকি, কাকে জানিয়েছিলেন এবং কী প্রতিকার চান তা লিখুন।
  9. ধারা ১২৪(ক)-এর প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিন: মজুরি ও আইনগত পাওনা আপস-মীমাংসায় নিষ্পত্তি চাইলে প্রযোজ্য অনুযায়ী “হ্যাঁ” নির্বাচন করা যেতে পারে। সন্দেহ হলে ১৬৩৫৭-এ জেনে নিন।
  10. প্রমাণ সংযুক্ত করুন: পোর্টালে বর্তমানে নথি, ছবি ও ভিডিওর বিভিন্ন ফরম্যাট গ্রহণের ব্যবস্থা আছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য ঢেকে পরিষ্কার ফাইল দিন।
  11. বেনামি থাকবেন কি না ঠিক করুন: সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা নিচের অংশ পড়ে সিদ্ধান্ত নিন।
  12. শর্ত, ক্যাপচা ও সাবমিট: সব তথ্য পুনরায় পড়ে শর্তে সম্মতি দিন, ক্যাপচা পূরণ করে দাখিল করুন।
  13. সনাক্তকরণ নম্বর সংরক্ষণ করুন: ফলাফলের স্ক্রিনশট নিন এবং নম্বরটি কাগজেও লিখে রাখুন।

অভিযোগের বিবরণ কীভাবে লিখবেন?

আবেগের বদলে যাচাইযোগ্য তথ্য লিখুন। এই কাঠামো অনুসরণ করুন:

LIMA ফরমের জন্য একটি সহজ উদাহরণ

“আমি [নাম], শ্রমিক আইডি [নম্বর], [প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা]-এ [পদবি] হিসেবে [যোগদানের তারিখ] থেকে কাজ করছি। [মাস/তারিখ] থেকে আমার [বেতন/ওভারটাইম/ছুটির টাকা] মোট আনুমানিক [টাকার পরিমাণ] পরিশোধ করা হয়নি। [তারিখ]-এ HR/ব্যবস্থাপককে মৌখিক/লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু সমাধান পাইনি। প্রমাণ হিসেবে [পে-স্লিপ/হাজিরা/বার্তা] সংযুক্ত করেছি। আমার দাবি হলো বকেয়া হিসাব যাচাই করে আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা।”

যদি সঠিক টাকার পরিমাণ না জানেন, “আনুমানিক” লিখুন এবং কোন মাস/কত দিন/কত ঘণ্টার পাওনা তা দিন। নিশ্চিত না হয়ে কোনো আইনধারা লিখতে হবে না—ঘটনা ও দাবি পরিষ্কার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

DIFE অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কীভাবে যাচাই করবেন?

  1. অভিযোগের অবস্থা যাচাই পেজে যান।
  2. দাখিলের পর পাওয়া অভিযোগ সনাক্তকরণ নম্বর লিখুন।
  3. “অনুসন্ধান” চাপুন এবং দেখানো অবস্থা/আপডেট সংরক্ষণ করুন।

নম্বর হারিয়ে গেলে ১৬৩৫৭-এ ফোন করে অভিযোগের তারিখ, মোবাইল, প্রতিষ্ঠান ও বিষয় জানিয়ে সহায়তা চাইতে পারেন। তবে গোপনীয়তার কারণে পরিচয় যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। একই বিষয়ে বারবার নতুন অভিযোগ না করে আগের নম্বর উল্লেখ করে অনুসরণ করা ভালো।

নাম প্রকাশ না করে অভিযোগ করা যাবে?

হ্যাঁ। LIMA ফরমে “অভিযোগকারী নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক?” অপশন আছে। DIFE বলেছে, এমন ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হবে। তবে সরকারি ফরমের শর্তাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সীমা বলা আছে:

  • কর্মক্ষেত্রের কেউ পরিস্থিতি দেখে অভিযোগকারীর পরিচয় অনুমান করতে পারে—DIFE এটি পুরোপুরি ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।
  • মামলা বা বিচার হলে সব পরিস্থিতিতে বেনামি থাকা নিশ্চিত নয়।
  • বেনামি অভিযোগে তদন্ত সাধারণত প্রতিষ্ঠান আইন ও বিধিমালা মানছে কি না—এ পর্যায়ে সীমিত থাকতে পারে।
  • আপনার নিজের বেতন-পাওনা বা ব্যক্তিগত প্রতিকার যাচাই করতে পরিদর্শকের আপনার নাম ও বিস্তারিত প্রয়োজন হতে পারে।
  • তদন্তের প্রয়োজনে DIFE আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
কখন বেনামি অপশন বিবেচনা করবেন?

ব্যাপক নিরাপত্তা সমস্যা, শিশু শ্রম বা পুরো শিফটের কর্মঘণ্টার মতো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অনিয়ম জানাতে এটি কাজে লাগতে পারে। কিন্তু শুধু আপনার বকেয়া বেতন বা ব্যক্তিগত চাকরিচ্যুতির প্রতিকার চাইলে পরিচয় ছাড়া তদন্ত সীমিত হতে পারে। ঝুঁকি থাকলে শ্রম সংগঠন, আইন সহায়তা সংস্থা বা আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ উপায় বেছে নিন।

DIFE হেল্পলাইন নম্বর ও জরুরি সহায়তা

সেবা নম্বর/লিংক কখন ব্যবহার করবেন
DIFE শ্রমিক হেল্পলাইন ১৬৩৫৭ (টোল-ফ্রি) শ্রম আইন, অভিযোগের পথ, DIFE অফিস বা চলমান অভিযোগ বিষয়ে দিকনির্দেশনা।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ আগুন, তাৎক্ষণিক জীবনঝুঁকি, হামলা বা জরুরি পুলিশ/ফায়ার/অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা।
নারী ও শিশু নির্যাতন সহায়তা ১০৯ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বা নির্যাতনে সহায়তা।
DIFE অনলাইন অভিযোগ সরকারি LIMA ফরম ঘটনার বিস্তারিত ও প্রমাণ লিখিতভাবে জমা দিতে।

১৬৩৫৭ সম্পর্কে DIFE-এর সরকারি ওয়েবসাইটে টোল-ফ্রি বলা হয়েছে; DIFE-এর হেল্পলাইন পেজে সার্বক্ষণিক সেবার কথাও উল্লেখ আছে। নেটওয়ার্ক বা সেবা ব্যস্ত থাকলে অনলাইন ফরম বা জেলা কার্যালয় ব্যবহার করুন।

মালিক বা DIFE অফিসে লিখিত অভিযোগের নমুনা

একই ঘটনার জন্য কাকে দিচ্ছেন, তার ওপর “প্রাপক” ও চাওয়া প্রতিকার বদলাবেন। নিচের নমুনাটি কপি করে নিজের সত্য তথ্য বসান। ধারা ৩৩-এর অভিযোগ হলে সময়সীমা ও প্রাপকের ঠিকানা বিশেষভাবে যাচাই করুন।

তারিখ: [দিন-মাস-বছর]

বরাবর
[মালিক/ব্যবস্থাপনা পরিচালক/মহাপরিদর্শক বা সংশ্লিষ্ট DIFE উপমহাপরিদর্শক]
[প্রতিষ্ঠান/কার্যালয়ের নাম ও ঠিকানা]

বিষয়: [বকেয়া মজুরি/অন্যায়ভাবে চাকরি অবসান/ছুটি/হয়রানি] সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ।

জনাব/মহোদয়,

আমি [পূর্ণ নাম], শ্রমিক আইডি [নম্বর], [প্রতিষ্ঠানের নাম]-এ [পদবি/বিভাগ] হিসেবে [যোগদানের তারিখ] থেকে কর্মরত/কর্মরত ছিলাম।

[তারিখ]-এ [ঘটনা কীভাবে ঘটেছে তা ধারাবাহিকভাবে লিখুন]। এর ফলে আমার [কোন অধিকার/কত টাকা/কোন সুবিধা] বকেয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি [আগে কাকে, কবে জানিয়েছিলেন] জানিয়েছি, কিন্তু [কী ফল হয়েছে]।

অতএব, আমার অভিযোগ তদন্ত করে [বকেয়া পরিশোধ/লিখিত সিদ্ধান্ত/চাকরিতে পুনর্বহাল/নিরাপত্তা ব্যবস্থা/প্রযোজ্য প্রতিকার] দেওয়ার অনুরোধ করছি।

সংযুক্তি: ১. আইডি/নিয়োগপত্রের কপি; ২. পে-স্লিপ/হাজিরা; ৩. চিঠি/বার্তা; ৪. পাওনার হিসাব; ৫. অন্যান্য প্রমাণ।

বিনীত,
স্বাক্ষর: __________
নাম: [পূর্ণ নাম]
মোবাইল: [নম্বর]
ঠিকানা: [ঠিকানা]

জমা দেওয়ার প্রমাণ রাখুন

সরাসরি দিলে গ্রহণকারীর স্বাক্ষর, তারিখ ও সিলসহ একটি কপি রাখুন। ধারা ৩৩-এ মালিক সরাসরি গ্রহণ করে লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার না দিলে নিবন্ধিত ডাক ব্যবহার করুন। ডাক রসিদ, ট্র্যাকিং, চিঠির কপি ও ডেলিভারির প্রমাণ একসঙ্গে রাখুন।

শ্রম আইন ধারা ৩৩ অনুযায়ী অভিযোগ ও শ্রম আদালতে যাওয়ার নিয়ম

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩ মূলত আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীন অভিযোগের প্রতিকারের একটি নির্দিষ্ট পথ। এতে ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ বা চাকরি অবসানের মতো বিষয়ে সংক্ষুব্ধ শ্রমিকও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আইনের বর্তমান সরকারি পাঠ অনুযায়ী মূল সময়রেখা হলো:

ধাপ ১: কারণ জানার ৩০ দিনের মধ্যে শ্রমিক লিখিত অভিযোগ নিবন্ধিত ডাকযোগে মালিককে পাঠাবেন। মালিক সরাসরি নিয়ে লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার দিলে নিবন্ধিত ডাক প্রয়োজন নেই।
ধাপ ২: মালিকের ৩০ দিন মালিক অভিযোগ তদন্ত করবেন, শ্রমিককে শুনানির সুযোগ দেবেন এবং লিখিত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
ধাপ ৩: পরের ৩০ দিনের মধ্যে আদালত সিদ্ধান্ত না এলে মালিকের সময় শেষ হওয়ার পর, অথবা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে লিখিত অভিযোগ করা যায়।
শুধু ১৬৩৫৭-এ ফোন বা LIMA-তে অভিযোগ করে ধারা ৩৩-এর সময়সীমা থেমে গেছে—এটি ধরে নেবেন না

ধারা ৩৩-এর মালিককে লিখিত অভিযোগ ও শ্রম আদালতে যাওয়ার আলাদা ধাপ আছে। চাকরি হারানো, পুনর্বহাল, বড় অঙ্কের পাওনা বা সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দ্রুত যোগ্য শ্রম আইনজীবী বা আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিন।

ধারা ২৬-এর চাকরি অবসানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা

ধারা ৩৩(৯) অনুযায়ী ধারা ২৬-এর অধীন দেওয়া চাকরি অবসানের আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে ধারা ৩৩-এর অভিযোগ চলে না—তবে ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ থাকলে, অথবা ধারা ২৬-এর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে ব্যতিক্রম হতে পারে। আপনার কাগজে “termination”, “dismissal”, “discharge” বা অন্য কোন ভিত্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা দেখে যোগ্য পরামর্শ নিন।

শ্রম আদালতে কী চাইতে পারেন?

প্রযোজ্য আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে শ্রম আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী পুনর্বহাল, বকেয়া বা অন্যান্য আইনগত প্রতিকার প্রশ্নে আসতে পারে। কী প্রতিকার পাওয়া যাবে তা মামলার ঘটনা, শ্রমিকের আইনগত অবস্থান, সময়সীমা ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করে—কেউ ফল নিশ্চিত করে বলতে পারে না।

ধারা ৩৩-এর অধীন অভিযোগ বা আপিল দাখিলে কোনো কোর্ট-ফি প্রদেয় নয়। শ্রম আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। তবে আইনজীবী, নকল, যাতায়াত বা আনুষঙ্গিক অন্য খরচ হতে পারে; “কোর্ট-ফি নেই” মানে পুরো প্রক্রিয়ার সব খরচ শূন্য—এমন নয়।

কোন শ্রম আদালতে যাবেন?

কারখানা/প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও আদালতের আঞ্চলিক অধিক্ষেত্র অনুযায়ী সঠিক শ্রম আদালত নির্বাচন করতে হয়। বর্তমান আদালত ও অধিক্ষেত্র দেখতে সরকারি শ্রম আদালতসমূহ ও অধিক্ষেত্র পেজ দেখুন। ঠিকানা বা এখতিয়ার বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে সরকারি পেজ/কার্যালয়ে নিশ্চিত করুন।

শ্রম আদালতে যাওয়ার আগে যে ফাইল বানাবেন

  • ঘটনার এক পাতার তারিখভিত্তিক সময়রেখা;
  • মালিককে দেওয়া অভিযোগ ও প্রাপ্তিস্বীকার/নিবন্ধিত ডাকের প্রমাণ;
  • মালিকের লিখিত সিদ্ধান্ত—থাকলে;
  • নিয়োগ, পরিচয়, বেতন, হাজিরা ও চাকরিচ্যুতির নথি;
  • DIFE অভিযোগ ও সনাক্তকরণ নম্বর—থাকলে;
  • পাওনার মাসভিত্তিক হিসাব;
  • সাক্ষী ও ডিজিটাল প্রমাণের তালিকা;
  • আপনি আদালতের কাছে ঠিক কী প্রতিকার চান তার সংক্ষিপ্ত তালিকা।

বেতন ও অন্যান্য পাওনায় ধারা ১২৪(ক) কীভাবে কাজে লাগতে পারে?

বর্তমান শ্রম আইনের ধারা ১২৪(ক) অনুযায়ী মজুরি ও অন্যান্য আইনগত পাওনা নিয়ে শ্রমিক প্রধান পরিদর্শক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আপস-মীমাংসার আবেদন করতে পারেন। সরকারি আইনের পাঠে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবেন বলা আছে। LIMA অভিযোগ ফরমেও জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি ধারা ১২৪(ক) অনুযায়ী মজুরিসহ অন্যান্য পাওনা আপস-মীমাংসায় সমাধান চান কি না।

এটি প্রতিটি বিরোধের একমাত্র পথ নয় এবং “২০ দিনে টাকা নিশ্চিত” এমন প্রতিশ্রুতি নয়; বরং কর্মকর্তার নিষ্পত্তির উদ্যোগের আইনি সময়সীমা। সমঝোতার আগে পাওনার হিসাব, কোন দাবি মিটছে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো দাবি থাকবে কি না—সব শর্ত পড়ে বুঝে স্বাক্ষর করুন। ফাঁকা কাগজে বা না পড়ে স্বাক্ষর করবেন না।

DIFE-এর প্রধান ও ৩১ জেলা কার্যালয় কোথায়?

DIFE-এর বর্তমান সাংগঠনিক তথ্যে একটি প্রধান কার্যালয় ও ৩১টি জেলা কার্যালয় রয়েছে। নিচের তালিকা DIFE-এর অফিসিয়াল “অফিসসমূহ” পেজে ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো। ফোন ও ঠিকানা বদলাতে পারে—যাওয়ার আগে DIFE-এর হালনাগাদ অফিস তালিকা অথবা ১৬৩৫৭ থেকে নিশ্চিত করুন।

DIFE প্রধান কার্যালয়

শ্রম ভবন, ১৯৬ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০। DIFE-এর সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পেজে প্রধান কার্যালয়ের ফোন ০২২২৬৬৬৪২০২ এবং ই-মেইল ig@dife.gov.bd দেখানো হয়েছে। যোগাযোগের আগে সরকারি যোগাযোগ পেজে তথ্যটি আবার যাচাই করুন।

কার্যালয় ঠিকানা অফিসিয়াল তালিকায় মোবাইল
ঢাকাবায়তুল আবেদ, ৯ম–১১তম তলা, ৫৩ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০০১৭০০৭৪৪৪৭৯
নারায়ণগঞ্জনবাব সলিমুল্লাহ রোড, বাগে জান্নাত মসজিদ সংলগ্ন, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ০১৭২৪৮২৪৮৪৬
গাজীপুরআইআরআই রোড, টঙ্গী, গাজীপুর০১৯১১৩১০৯২৭
চট্টগ্রামশিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন, পলিটেকনিক রোড, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম-৪২০৯০১৭১৩২০৩০৭০
নরসিংদী২৬/২ তরোয়া, জেলখানা মোড়, নরসিংদী০১৯১২০১৫৮১২
মুন্সিগঞ্জআর. কে. টাওয়ার, ৫ম তলা, ৬০৫ বাগমামুদালী, মুন্সিগঞ্জ০১৭১৭৯৮৫৭০১
টাঙ্গাইলপান্থ প্রভা, ৩য় তলা, বি-২৪/১০ আতপুকুরপাড়, বিশ্বাস বেতকা, ঢাকা রোড, টাঙ্গাইল০১৯৬২৪০১৮৮০
কিশোরগঞ্জ৬১৩/১ কলেজ রোড, হারুয়া, কিশোরগঞ্জ০১৭১৭১৪৯৪১৪
মৌলভীবাজারভানুগাছ রোড, ১০ নম্বর সার্কেল সংলগ্ন, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার০১৩১২২১৬৩৫৭
ফরিদপুরপশ্চিম গোয়ালচামট, রোড নং ২, ফরিদপুর০১৯১১৭০৩৫৩০
কুমিল্লাযাদুঘর রোড, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের প্রথম গেট সংলগ্ন, কোটবাড়ী, সদর দক্ষিণ০১৯১৬০০১২৬৮
সিলেটবাসা ১৬, রোড ২২, ব্লক-ডি, শাহজালাল উপশহর, সিলেট-৩১০০০১৮১৫৬১০৭১৭
ময়মনসিংহঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, মাসকান্দা, ময়মনসিংহ০১৭১২৬৮৬৪৭৪
রংপুরআর. কে. রোড, গণেশপুর, রংপুর০১৭১১৪৭৫৩২৮
দিনাজপুরমদিনা প্লাজা, ৩য় তলা, প্লট ২৫, গাউসুল আজম চক্ষু হাসপাতাল রোড, উপশহর-২, দিনাজপুর০১৭১১৩৫৬১০৪
রাজশাহীক্যান্টনমেন্ট রোড, তেরখাদিয়া, রাজপাড়া, রাজশাহী০১৭২২৫৪৮৬৮৯
পাবনারাজাপুর, ঢাকা রোড, পাবনা সদর, পাবনা০১৭১২২০৩৫৯৬
বগুড়াবাড়ি জি-১২৫, রহমান নগর, বগুড়া-৫৮০০০১৭১১৪৭৫৩২৮
সিরাজগঞ্জচর রায়পুর, পূর্বপাড়া, রামগতি, সিরাজগঞ্জ০১৭১৫৫৪৬১৭৭
কুষ্টিয়া৪০/১ মাহতাব উদ্দিন রোড, পুরাতন কাটাইখানা মোড়, কুষ্টিয়া০১৭২৯৭১৩৩৮২
যশোরবাড়ি ২৩৬, প্লট ০৮, সেক্টর ০৯, যশোর হাউজিং এস্টেট, শেখহাটি বাবলাতলা, যশোর-৭৪০০০১৯১১৫৫৮৫১১
খুলনা১৫০ খানজাহান আলী রোড, ৪র্থ তলা, পশ্চিম রূপসা, খুলনা০১৯১৫৯৩০৪৩৪
বরিশালআমানতগঞ্জ, সোনালী আইসক্রিম মোড়, বরিশাল০১৮৬৮৯৭০৯৫৮
মানিকগঞ্জবিজয় ভবন, ৩য় ও ৪র্থ তলা, বেউথা রোড, মানিকগঞ্জ০১৭০৮১১২০১৪
গোপালগঞ্জপৌর ভবন, ৩য় তলা, বঙ্গবন্ধু রোড, গোপালগঞ্জ০১৭১৬৪৭৪৭৮০
ফেনীওয়ালেদাইন টাওয়ার, কাথবালিয়া, সালাউদ্দিন মোড়ের উত্তরে, মদিনানগর, ফেনী০১৮৫৫৪৬৫৯৩৬
রাঙামাটিপ্যারাডাইস টাওয়ার, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা, দক্ষিণ কালিন্দিপুর, রাঙামাটি-৪৫০০০১৭১৭৭৩৫৪৮৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়াহা-মীম ভবন, ওয়াপদা রোড, দাতিয়ারা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া০১৯১৩৭৬৯৯১৪
কক্সবাজারআবেদিনস, ৩৫২ নিউ সার্কিট হাউস রোড, ওয়ার্ড ১০, মধ্য বাহারছড়া, কক্সবাজার০১৭৪৪৩০০৩০০
নওগাঁহোল্ডিং ২৪২২, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মকবুল হোসেন রোড, চকএনায়েত, মাস্টারপাড়া, নওগাঁ০১৭৯৩৩০৬৫৬১
জামালপুরচৌধুরী বাড়ি, হোল্ডিং ৬২৩, পলিশা, বেলটিয়া, জামালপুর সদর০১৭১২৬৮৬৪৭৪

আপনার জেলায় আলাদা DIFE অফিস না থাকলে কোন জেলা কার্যালয় দায়িত্বে আছে, তা DIFE-এর পরিদর্শকদের এলাকা বণ্টন পেজ বা ১৬৩৫৭ থেকে জেনে নিন। কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নামের বদলে পদবি ও কার্যালয়ের নামে আবেদন করা নিরাপদ, কারণ কর্মকর্তা বদলাতে পারেন।

অভিযোগ করার পর কী করবেন?

  1. সব প্রমাণের ব্যাকআপ নিন: ফোন নষ্ট বা হারালে যেন কাগজপত্র না হারায়। বিশ্বস্ত ই-মেইল/ড্রাইভ বা আলাদা ডিভাইসে রাখুন।
  2. সনাক্তকরণ নম্বর দিয়ে অবস্থা দেখুন: আপডেটের তারিখ লিখে রাখুন।
  3. DIFE ফোন করলে সহযোগিতা করুন: অফিসিয়াল পরিচয় যাচাই করে সত্য তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি দিন। OTP, পাসওয়ার্ড বা অপ্রয়োজনীয় ব্যাংক তথ্য দেবেন না।
  4. নতুন ঘটনা আলাদা করে লিখুন: অভিযোগের পর হুমকি, বদলি, গেট বন্ধ বা কাগজে জোর করে স্বাক্ষরের চেষ্টা হলে তারিখসহ নথিভুক্ত করুন এবং আগের অভিযোগ নম্বর উল্লেখ করুন।
  5. আইনি সময়সীমা আলাদাভাবে দেখুন: DIFE তদন্ত চললেও ধারা ৩৩ বা অন্য মামলার সময়সীমা আছে কি না আইনজীবীর সঙ্গে যাচাই করুন।
  6. সমঝোতা পড়ে বুঝুন: কত টাকা, কোন দাবির নিষ্পত্তি, পেমেন্টের তারিখ ও পদ্ধতি—সব লিখিত না থাকলে স্বাক্ষর করবেন না।

শ্রমিক অভিযোগ করার সময় সাধারণ ১০টি ভুল

  1. ভুল প্রতিষ্ঠান বা অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া: এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস/পরিদর্শক নির্ধারণে সমস্যা হয়।
  2. শুধু “আমার বিচার চাই” লেখা: তারিখ, ঘটনা, টাকা ও চাওয়া সমাধান স্পষ্ট করুন।
  3. একাধিক ঘটনার সময়রেখা না দেওয়া: পুরোনো থেকে নতুন তারিখে সাজান।
  4. মূল কাগজ জমা দিয়ে কপি না রাখা: সম্ভব হলে কপি দিন; মূল দেখালে ফেরত নিন।
  5. ট্র্যাকিং নম্বর হারানো: স্ক্রিনশট, কাগজ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে কপি রাখুন।
  6. ভুল আইনের ধারা জোর করে বসানো: নিশ্চিত না হলে ঘটনা সঠিকভাবে লিখুন।
  7. দালালকে টাকা দেওয়া: সরকারি LIMA অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তিতে কোনো ফি নেই।
  8. বেনামি অভিযোগে ব্যক্তিগত পাওনা নিশ্চিতভাবে উদ্ধার হবে ভাবা: পরিচয় ছাড়া তদন্ত সীমিত হতে পারে।
  9. DIFE অভিযোগ করেই ধারা ৩৩-এর সময়সীমা ভুলে যাওয়া: চাকরিচ্যুতির ঘটনায় দ্রুত লিখিত নোটিশ ও আইনি পরামর্শ নিন।
  10. না পড়ে সমঝোতা বা ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর করা: নিজের কপি ছাড়া কিছু স্বাক্ষর করবেন না।

নিজের পাওনার হিসাব আগে পরিষ্কার করুন

অভিযোগে সঠিক বা ব্যাখ্যাসহ আনুমানিক হিসাব দিলে বিষয়টি বোঝা সহজ হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রম অধিকার-এর ওভারটাইম ক্যালকুলেটর, লে-অফ ক্ষতিপূরণ ক্যালকুলেটর, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ ক্যালকুলেটর বা গ্র্যাচুইটি ক্যালকুলেটর দিয়ে একটি প্রাথমিক হিসাব বানাতে পারেন। এগুলো আনুমানিক শিক্ষামূলক হিসাব—চূড়ান্ত আইনগত পাওনা নথি ও প্রযোজ্য আইন দেখে নির্ধারিত হবে।

শ্রমিক অভিযোগ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

DIFE-এর পূর্ণরূপ কী?

DIFE-এর পূর্ণরূপ Department of Inspection for Factories and Establishments। বাংলায় এটি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, যা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন।

শ্রমিকদের হেল্পলাইন নম্বর কত?

DIFE-এর টোল-ফ্রি শ্রমিক হেল্পলাইন নম্বর ১৬৩৫৭। তাৎক্ষণিক জীবনঝুঁকি, আগুন বা অপরাধে ৯৯৯ ব্যবহার করুন।

DIFE-তে অভিযোগ করতে টাকা লাগে?

না। LIMA-এর সরকারি শর্তাবলি অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। দালালকে টাকা দেবেন না।

অনলাইনে শ্রমিক অভিযোগ কোথায় করব?

lima.dife.gov.bd/complaint ঠিকানার সরকারি ফরমে অভিযোগ করা যায়। জমার পর সনাক্তকরণ নম্বর সংরক্ষণ করুন।

অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কীভাবে যাচাই করব?

LIMA ট্র্যাকিং পেজে অভিযোগ সনাক্তকরণ নম্বর দিয়ে অবস্থা দেখা যায়।

কাগজপত্র না থাকলে অভিযোগ করা যাবে?

যা আছে তা দিয়ে সত্য ঘটনা জানাতে পারেন। আইডি, হাজিরা, পে-স্লিপ না থাকলে বার্তা, ব্যাংক/MFS রেকর্ড, সহকর্মীর তথ্য বা অন্য সহায়ক প্রমাণ উল্লেখ করুন। প্রমাণ কম হলে যাচাই কঠিন হতে পারে, কিন্তু তাই বলে ভুয়া কাগজ তৈরি করবেন না।

নাম গোপন রেখে অভিযোগ করা যায়?

হ্যাঁ, LIMA-তে বেনামি থাকার অপশন আছে। তবে ব্যক্তিগত বেতন-পাওনা বা ব্যক্তিগত প্রতিকার তদন্তে পরিচয় প্রয়োজন হতে পারে, এবং সব পরিস্থিতিতে পরিচয় অনুমান বা প্রকাশ হবে না—এ নিশ্চয়তা নেই।

শ্রম আইন ধারা ৩৩ কী?

এটি আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীন অভিযোগে প্রতিকারের পদ্ধতি। সাধারণভাবে কারণ জানার ৩০ দিনের মধ্যে মালিককে লিখিত অভিযোগ, মালিকের ৩০ দিনের তদন্ত/সিদ্ধান্ত, এবং সিদ্ধান্ত না এলে বা অসন্তুষ্ট হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে অভিযোগের ধাপ রয়েছে।

DIFE অভিযোগ আর শ্রম আদালতের অভিযোগ কি একই?

না। DIFE শ্রম আইন পরিপালন নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করে; শ্রম আদালত বিচারিক প্রতিকার দেয়। একটি অভিযোগ অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাখিল করে না।

গার্মেন্টস শ্রমিক কোথায় অভিযোগ করবেন?

গার্মেন্টসটি EPZ-এর বাইরে এবং বাংলাদেশ শ্রম আইনের আওতায় হলে DIFE ১৬৩৫৭, LIMA বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ করতে পারেন। EPZ-এর ভেতরে হলে BEPZA/EPZ-এর আলাদা ব্যবস্থা অনুসরণ করুন।

অভিযোগ করার পর চাকরি থেকে বাদ দিলে কী করব?

ঘটনার তারিখ, চিঠি, গেট বন্ধ, বার্তা ও সাক্ষীর তথ্য সংরক্ষণ করুন; আগের DIFE অভিযোগ নম্বরসহ দ্রুত জানান। একই সঙ্গে ধারা ৩৩-এর সময়সীমা প্রযোজ্য কি না যোগ্য আইনজীবীর কাছে যাচাই করুন।

থানায় অভিযোগ করব, নাকি DIFE-তে?

মজুরি, ছুটি, কর্মঘণ্টা ও শ্রম আইন পরিপালনের বিষয় DIFE-এর; হামলা, হুমকি, আটকে রাখা, আগুন বা অন্য অপরাধে পুলিশ/৯৯৯-এর পথ আলাদা। একই ঘটনায় দুই ধরনের বিষয় থাকলে উভয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারি আইন ও তথ্যসূত্র

লেখক ও তথ্য-পর্যালোচনা

শ্রম অধিকার সম্পাদকীয় টিম

এই লেখাটি শ্রম আইন সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য ও শিক্ষামূলক গাইড হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। লেখায় ব্যবহৃত আইন, বিধি ও সরকারি উৎস মিলিয়ে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

আইনি ডিসক্লেইমার

এটি কোনো আইনজীবীর ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয় এবং কোনো ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। প্রতিটি ঘটনার তথ্য, প্রমাণ, কর্মস্থলের ধরন ও সময়সীমা আলাদা। চাকরিচ্যুতি, মামলা, বড় অঙ্কের পাওনা, নিরাপত্তা-ঝুঁকি বা সমঝোতায় স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি উৎস এবং যোগ্য শ্রম আইনজীবীর পরামর্শ নিন। “শ্রম অধিকার” কোনো সরকারি সংস্থা নয়।