আইন ও সরকারি তথ্য সর্বশেষ যাচাই: ২৬ জুলাই ২০২৬

ইপিজেডের কারখানায় বেতন বা ওভারটাইম আটকে রাখা, ছুটি না দেওয়া, অন্যায়ভাবে চাকরি শেষ করা, গালাগালি, যৌন হয়রানি কিংবা অনিরাপদ কর্মপরিবেশ—সমস্যা যেটিই হোক, অভিযোগের পথ সাধারণ কারখানার মতো নয়। BEPZA পরিচালিত ইপিজেডের জন্য আলাদা শ্রম আইন, জোন প্রশাসন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। BEPZA প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি কর্তৃপক্ষ এবং এর প্রতিটি ইপিজেডে শ্রমিক অভিযোগ দেখার নিজস্ব শিল্প সম্পর্ক বিভাগ রয়েছে।

সংক্ষেপে উত্তর

BEPZA-এর অধীন কোনো ইপিজেডে কাজ করলে অভিযোগ প্রথমে সংশ্লিষ্ট BEPZA জোন অফিসের কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর/সহকারী মহাপরিদর্শকের কাছে দিন অথবা ১৬১২৮ হেল্পলাইনে ফোন করে নিজের EPZ নির্বাচন করে জানান। সমাধান না হলে বা আইনগত প্রতিকার প্রয়োজন হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে EPZ শ্রম আদালতে অভিযোগ করা যায়। চাকরিচ্যুতি বা চাকরির শর্তের প্রতিকারে ধারা ২৮-এর লিখিত নোটিশ ও সময়সীমাও মানতে হবে।

আগে যে ৮টি বিষয় মনে রাখবেন
  • ১৬১২৮ হলো BEPZA হেল্পলাইন; বর্তমান IVR নির্দেশনা শুনে নিজের ইপিজেডের জন্য বলা নম্বর চাপতে হবে।
  • ইপিজেড শ্রমিকের অভিযোগ দেওয়ার প্রথম জায়গা হলো সংশ্লিষ্ট BEPZA জোন অফিসের শিল্প সম্পর্ক বিভাগ
  • সেখানে একই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর এবং অফিস আদেশ অনুযায়ী সহকারী মহাপরিদর্শক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ফোনে বলা অভিযোগ সহায়তার পথ; এটি ধারা ২৮-এর লিখিত অভিযোগের বিকল্প নয়।
  • ঘটনার তারিখ, কারখানার নাম, শ্রমিক আইডি, দাবি এবং প্রমাণ যতটা সম্ভব গুছিয়ে দিন।
  • খালি কাগজ, না-পড়া সমঝোতা বা “সব পাওনা বুঝে পেয়েছি” লেখা কাগজে সই করবেন না।
  • জোন অফিসে অভিযোগ দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ সিল, তারিখ বা অভিযোগ নম্বর রাখুন।
  • সময়সীমা অল্প; চাকরি শেষের কাগজ পেলে দ্রুত লিখিত অভিযোগ ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিন।

কোন অভিযোগ কোথায় করবেন?

একই সমস্যায় একাধিক পথ লাগতে পারে। নিচের ছকটি আগে দেখুন।

সমস্যাপ্রথম পদক্ষেপবিশেষ সতর্কতা
বেতন, ওভারটাইম, ছুটি, মাতৃত্ব সুবিধা, সার্ভিস বেনিফিটজোন অফিসের কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর/সহকারী মহাপরিদর্শক অথবা ১৬১২৮মাসভিত্তিক পাওনার হিসাব ও প্রমাণ দিন।
বরখাস্ত, অপসারণ, ডিসচার্জ, ছাঁটাই বা চাকরি অবসান নিয়ে প্রতিকারধারা ২৮ মেনে ৩০ দিনের মধ্যে মালিককে লিখিত অভিযোগশুধু হেল্পলাইনে ফোন করে সময় পার করবেন না।
গালাগালি, ভয়ভীতি, যৌন হয়রানি, বৈষম্যজোন কাউন্সিলর; কারখানার অভিযোগ কমিটি থাকলে সেখানেও লিখিত অভিযোগতারিখ, স্থান, সাক্ষী, বার্তা ও ঘটনার ধারাবিবরণী রাখুন।
আগুন, যন্ত্র, ভবন বা কর্মপরিবেশে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিসুপারভাইজার/সেফটি কমিটি ও জোন প্রশাসনকে দ্রুত জানান; ১৬১২৮জীবনঝুঁকি হলে নিরাপদ স্থানে যান এবং জরুরি সেবা নিন।
হুমকি, হয়রানি, অপমান বা অভিযোগের কারণে প্রতিশোধজোন অফিসের শিল্প সম্পর্ক বিভাগ অথবা ১৬১২৮আগের অভিযোগ নম্বর ও নতুন ঘটনার তারিখ উল্লেখ করুন।

ইপিজেড শ্রমিকের অভিযোগ কারা দেখেন?

BEPZA পরিচালিত ইপিজেডে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ প্রযোজ্য। বেপজা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন। ইপিজেড শ্রমিকের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট BEPZA জোন অফিসের শিল্প সম্পর্ক বিভাগের।

BEPZA জোন অফিসইপিজেডের কারখানা, শ্রমিক কল্যাণ, কর্মপরিবেশ ও অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে যোগাযোগের প্রধান জায়গা।
কাউন্সিলর/সহকারী মহাপরিদর্শকশিল্প সম্পর্ক বিভাগে একই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর এবং অফিস আদেশ অনুযায়ী সহকারী মহাপরিদর্শক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ইপিজেড শ্রম আদালতআইন, রোয়েদাদ, সমঝোতা বা চুক্তির অধিকার বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত অভিযোগের বিচারিক প্রতিকারের পথ।
DIFE-তে নয়

ইপিজেড শ্রম আইনের ধারা ১৬৮ অনুযায়ী বেপজা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে DIFE কোনো ইপিজেড শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারে। কিন্তু ইপিজেড শ্রমিকের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার DIFE-এর নয়। অভিযোগ দিতে হবে বেপজা জোন অফিসের কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর/সহকারী মহাপরিদর্শকের কাছে অথবা ১৬১২৮ হেল্পলাইনে। ইপিজেডের বাহিরের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কারখানার শ্রমিক অভিযোগ গাইড।

বেপজা ১৬১২৮ হেল্পলাইনে কীভাবে অভিযোগ করবেন?

BEPZA-এর সরকারি ওয়েবসাইটে ১৬১২৮ হেল্পলাইন দেওয়া আছে। BEPZA-এর বার্ষিক প্রতিবেদনেও এটিকে EPZ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের সমস্যা জানানোর হেল্পলাইন বলা হয়েছে।

  1. ১৬১২৮ নম্বরে কল করুন। নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকলে কিছু সময় পর আবার চেষ্টা করুন।
  2. রেকর্ড করা IVR নির্দেশনা মন দিয়ে শুনুন। আলাদা ইপিজেডের জন্য আলাদা অপশন দেওয়া হয়; আপনার জোনের জন্য যে নম্বর বলা হবে সেটিই চাপুন।
  3. কারখানার পরিচয় বলুন। কারখানার পূর্ণ নাম, ইপিজেড, বিভাগ, পদবি ও শ্রমিক আইডি বলুন।
  4. ঘটনা ছোট বাক্যে বলুন। কবে, কোথায়, কে কী করেছে এবং আপনি কী প্রতিকার চান—এই চারটি বিষয় পরিষ্কার করুন।
  5. রেফারেন্স বা অভিযোগ নম্বর চাইুন। পেলে লিখে রাখুন; কবে ও কয়টায় ফোন করেছেন সেটিও নোট করুন।
  6. পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন। জোন অফিসে কাগজ দিতে বললে অভিযোগের দুই কপি নিয়ে যান এবং এক কপিতে গ্রহণের সিল নিন।
কোন বাটন চাপবেন?

হেল্পলাইনের IVR মেনু পরিবর্তন হতে পারে। তাই পুরোনো পোস্টের কোনো সংখ্যার তালিকা অনুসরণ না করে কলের সময় বর্তমান রেকর্ডিংয়ে আপনার EPZ-এর জন্য বলা নম্বর চাপুন। যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট কী-ম্যাপ প্রকাশ করলে শ্রমিক ভুল জোনে চলে যেতে পারেন।

BEPZA জোন অফিস ও কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টরের কাছে অভিযোগ

ইপিজেড শ্রম বিধিমালায় শ্রমিককে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টরের কাছে সরাসরি অভিযোগ উপস্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কর্মকর্তা অভিযোগ সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন; বিশেষ বা জটিল বিষয় ঊর্ধ্বতন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের জন্য পাঠাতে পারেন।

কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর (সোশ্যাল) BEPZA-এর নবম গ্রেডের কর্মকর্তা পদ। জোনের শিল্প সম্পর্ক বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই একই কর্মকর্তা অফিস আদেশ অনুযায়ী সহকারী মহাপরিদর্শক পদও ধারণ করেন। তাই অভিযোগপত্র “কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর (সোশ্যাল)/সহকারী মহাপরিদর্শক, শিল্প সম্পর্ক বিভাগ” বরাবর দেওয়া যায়।

সরাসরি গেলে কী করবেন?

  1. অভিযোগপত্রের দুই কপি নিন।
  2. খামের ওপর “কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর, [ইপিজেডের নাম]” লিখুন।
  3. এক কপি জমা দিয়ে অন্য কপিতে তারিখ, সিল ও গ্রহণকারীর স্বাক্ষর নিন।
  4. গ্রহণ না করলে রেজিস্ট্রি ডাক/ট্র্যাকযোগ্য কুরিয়ারে পাঠিয়ে রসিদ রাখুন।
  5. মৌখিক আলোচনায় সমাধান হলে লিখিত সিদ্ধান্ত বা সমঝোতার কপি চাইুন।

অভিযোগ করার আগে কী কী প্রস্তুত করবেন?

সব কাগজ হাতে না থাকলেও অভিযোগ বন্ধ রাখবেন না। যা আছে তার কপি রাখুন; যা নেই, তা বানাবেন না।

পরিচয় ও চাকরির তথ্য

  • নাম, মোবাইল, নিরাপদ যোগাযোগের ঠিকানা;
  • শ্রমিক আইডি, পদ, বিভাগ, লাইন ও শিফট;
  • যোগদানের তারিখ এবং চাকরি শেষ হলে শেষ কর্মদিবস;
  • নিয়োগপত্র, আইডি কার্ড, সার্ভিস বই বা উপস্থিতির কপি।

ঘটনা ও প্রমাণ

  • ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম/পদ;
  • বেতন শিট, পে-স্লিপ, ব্যাংক/MFS লেনদেন, হাজিরা, ছুটির আবেদন;
  • শোকজ, জবাব, চাকরিচ্যুতির চিঠি, গেট পাস বন্ধের বার্তা;
  • বৈধভাবে পাওয়া SMS, ই-মেইল, WhatsApp বার্তা, ছবি বা চিকিৎসার কাগজ;
  • সাক্ষী থাকলে তাঁদের নাম ও যোগাযোগ—তাঁদের সম্মতি নিয়ে;
  • পাওনার হিসাব: কোন মাস, কী বাবদ, কত টাকা।

অভিযোগে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর থাকবে

  1. কোন কারখানা ও কোন ইপিজেড?
  2. কী ঘটেছে?
  3. কবে ঘটেছে বা কবে জানতে পেরেছেন?
  4. আগে কাকে জানিয়েছেন এবং কী উত্তর পেয়েছেন?
  5. আপনি ঠিক কী প্রতিকার চান?

ধারা ২৮ অনুযায়ী মালিককে লিখিত অভিযোগের নিয়ম

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯-এর ধারা ২৮ মূলত আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের চাকরির শর্ত-সংক্রান্ত প্রতিকারের পথ। ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্যভাবে চাকরি শেষ হওয়া শ্রমিকও এর আওতায় অভিযোগ করতে পারেন।

৩০ দিনের মধ্যেঅভিযোগের কারণ জানার তারিখ থেকে মালিককে লিখিত অভিযোগ পাঠান।
রেজিস্ট্রি ডাকডাকের রসিদ, ট্র্যাকিং ও অভিযোগপত্রের কপি সংরক্ষণ করুন।
সরাসরি দিলেমালিক/কর্তৃপক্ষের লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার নিন; তখন রেজিস্ট্রি ডাক দরকার হয় না।
খুব গুরুত্বপূর্ণ

ফোন, মেসেঞ্জার বা মৌখিক আলোচনাকে ধারা ২৮-এর নির্ধারিত লিখিত অভিযোগের নিশ্চয়তা ধরে নেবেন না। প্রথমে কাউন্সিলর/সহকারী মহাপরিদর্শক বা ১৬১২৮-এ বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত লিখিত অভিযোগ দিন। ৩০ দিনের হিসাব নিয়ে সন্দেহ হলে দেরি না করে পদক্ষেপ নিন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মালিক কী করবেন?

ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী চাকরির শর্ত-সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তদন্ত ও সিদ্ধান্তের একটি ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা আছে। সহজভাবে সময়রেখাটি হলো:

  1. পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ: মালিক বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিযুক্ত করবেন।
  2. শুনানির লিখিত নোটিশ: অভিযোগকারী শ্রমিককে বক্তব্য ও প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। নোটিশ পেয়েও না গেলে একতরফা তদন্ত হতে পারে।
  3. ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত ও প্রতিবেদন: তদন্ত কর্মকর্তা বক্তব্য, কাগজ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য দেখে প্রতিবেদন দেবেন।
  4. পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত: মালিক/কর্তৃপক্ষ লিখিত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এই সময়গুলো আইনি প্রক্রিয়ার সারাংশ। ছুটি, নোটিশ প্রদান, নির্দিষ্ট ঘটনার ধরন বা পরবর্তী সংশোধনীতে হিসাবের প্রয়োগ বদলাতে পারে। মূল গেজেট ও আইনজীবীর পরামর্শ অগ্রাধিকার পাবে।

সমাধান না হলে জোন অফিস থেকে EPZ শ্রম আদালত পর্যন্ত

মালিক অভিযোগের ব্যবস্থা না নিলে বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে ইপিজেড শ্রম বিধিমালায় সংশ্লিষ্ট জোনের শ্রম প্রশাসনের কাছে যাওয়ার ধাপ রয়েছে। কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর অভিযোগ সমাধান করতে পারেন বা প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে পারেন। নির্ধারিত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে বিধিমালার সময়সীমা মেনে মহাপরিদর্শক এবং পরে EPZ শ্রম আদালতের পথ থাকতে পারে।

ধাপকী করবেনসময়সীমা/প্রমাণ
মালিকের কাছেধারা ২৮ অনুযায়ী লিখিত অভিযোগকারণ জানার ৩০ দিনের মধ্যে; রেজিস্ট্রি রসিদ বা লিখিত গ্রহণপত্র
জোন শ্রম প্রশাসনমালিক ব্যবস্থা না নিলে বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে লিখিত অভিযোগ; কাউন্সিলরের সহায়তা নিনবিধিমালায় স্বল্প সময়সীমা আছে—দেরি না করে ৩০ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিন
মহাপরিদর্শকপ্রযোজ্য সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে লিখিত অভিযোগবিধিমালার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময়সীমা থাকতে পারে
EPZ শ্রম আদালতপ্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরমে বিচারিক অভিযোগবিধিমালার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১৫ দিনের সীমা থাকতে পারে; দ্রুত আইন সহায়তা নিন
আপিলআদালতের রোয়েদাদের বিরুদ্ধে EPZ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলআইনে ৩০ দিনের আপিল সময়সীমা রয়েছে

ইপিজেড শ্রম আইনের ধারা ১৩২ অনুযায়ী CBA, মালিক বা শ্রমিক আইন, রোয়েদাদ, নিষ্পত্তি বা চুক্তির অধিকার বাস্তবায়নে EPZ শ্রম আদালতে আবেদন করতে পারেন। ধারা ১৩৩ সরকারকে EPZ শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা ও এলাকার এখতিয়ার নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে। আর ধারা ১৩৭ অনুযায়ী বিশেষ EPZ আদালত/ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ শ্রম আইনের অধীন প্রচলিত শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকে EPZ আদালত/ট্রাইব্যুনাল হিসেবে গণ্য করা হয়।

আদালতে যাওয়ার আগে

কোন আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ার, কোন ফরম, কাকে বিবাদী করতে হবে এবং কোন তারিখ থেকে সময় গণনা হবে—এসব ভুল হলে মামলা ঝুঁকিতে পড়ে। জোন অফিসের সিদ্ধান্ত, ডাকরসিদ, চাকরির কাগজ ও পাওনার হিসাব নিয়ে শ্রম আইনজীবী বা সরকারি আইন সহায়তা অফিসে যান।

ইপিজেড শ্রমিক অভিযোগপত্রের নমুনা

নিচের নমুনা নিজের সত্য ঘটনা অনুযায়ী বদলাবেন। প্রমাণ নেই এমন অভিযোগ বা বাড়িয়ে লেখা তথ্য যোগ করবেন না।

তারিখ: [দিন–মাস–বছর]

বরাবর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক/মালিক
[কারখানার পূর্ণ নাম]
[ইপিজেড ও ঠিকানা]

বিষয়: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯-এর ধারা ২৮ অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ ও প্রতিকার প্রার্থনা।

জনাব/জনাবা,

আমি [নাম], শ্রমিক আইডি [নম্বর], [বিভাগ/পদ]-এ [যোগদানের তারিখ] থেকে কর্মরত ছিলাম/আছি। [তারিখ]-এ আমাকে [ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট বিবরণ] জানানো/করা হয়। আমি [যে তারিখে কারণ জেনেছেন] বিষয়টি জানতে পারি।

ঘটনার কারণে আমার [বকেয়া বেতন/ওভারটাইম/চাকরি/সুবিধা/অন্য অধিকার] ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত কাগজপত্রে প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়া হলো।

অতএব, বিষয়টি তদন্ত করে আমাকে [নির্দিষ্ট প্রতিকার—যেমন বকেয়া পরিশোধ, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, পুনর্বহাল, লিখিত সিদ্ধান্ত] দেওয়ার অনুরোধ করছি। এই অভিযোগ গ্রহণের লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার এবং সিদ্ধান্ত আমার নিচের ঠিকানায় দেওয়ার অনুরোধ রইল।

বিনীত,
[স্বাক্ষর/টিপসই]
[নাম]
[শ্রমিক আইডি, বিভাগ, মোবাইল, ঠিকানা]

সংযুক্তি: নিয়োগপত্র/আইডি/বেতন শিট/চিঠি/বার্তার কপি/হিসাব—যা প্রযোজ্য।

অনুলিপি (প্রয়োজনে): কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর, [ইপিজেডের নাম]।

উদাহরণ: চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া ওভারটাইম

রুবিনার ঘটনা

রুবিনা ঢাকা ইপিজেড-এর একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ৫ জুলাই তাঁকে গেটে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং মৌখিকভাবে চাকরি নেই বলা হয়। জুনের ওভারটাইমও বাকি। তিনি ৭ জুলাই ১৬১২৮-এ ফোন করে ঢাকা EPZ অপশন নেন, অভিযোগের সময় ও কথোপকথনের নোট রাখেন। একই দিন জোন কাউন্সিলরের কাছে লিখিত কপি দেন।

তবে এখানেই থামেননি। ৫ জুলাইকে কারণ জানার তারিখ ধরে ৩০ দিনের অপেক্ষা না করে দ্রুত মালিককে ধারা ২৮ উল্লেখ করে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ পাঠান। চিঠিতে চাকরির লিখিত অবস্থা, ওভারটাইমের হিসাব এবং প্রতিকার চান। ডাকরসিদ, অভিযোগের কপি, গেটের বার্তা ও বেতন নথি আলাদা ফাইলে রাখেন। মালিকের সিদ্ধান্ত না এলে বা অসন্তুষ্ট হলে এসব কাগজ নিয়ে জোন কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীর সহায়তায় পরবর্তী ধাপে যান।

BEPZA-এর ইপিজেড জোন অফিসগুলো

বর্তমান BEPZA ওয়েবসাইটে আটটি পরিচালিত EPZ ও BEPZA Economic Zone দেখানো হয়েছে। কর্মকর্তা বদলাতে পারেন, তাই ব্যক্তির নামের বদলে নিচে অফিসের বর্তমান সরকারি ঠিকানা ও প্রধান অফিস ফোন দেওয়া হলো। যাওয়ার আগে BEPZA ContactZone Office পেজে মিলিয়ে নিন।

জোনঠিকানাঅফিস ফোন
চট্টগ্রাম EPZদক্ষিণ হালিশহর, চট্টগ্রাম+৮৮০ ২৩৩৩৩৪১৪৪৬
ঢাকা EPZগণকবাড়ী, সাভার, ঢাকা+৮৮০ ২২২৪৪৯৮২৩৮
মোংলা EPZমোংলা, বাগেরহাট+৮৮০ ২৪৭৮৮৪৬১৪৪
কুমিল্লা EPZপুরাতন বিমানবন্দর এলাকা, কুমিল্লা+৮৮০ ২৩৩৪৪০০০৫৫
ঈশ্বরদী EPZঈশ্বরদী, পাবনা+৮৮০ ২৫৮৮৮৪৭৮০২
উত্তরা EPZসোনারায়/সাঙ্গালশী, নীলফামারী+৮৮০ ২৫৮৮৮১৯০০২
আদমজী EPZআদমজীনগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ+৮৮০ ২৯৯৭৭৪৪৮০০
কর্ণফুলী EPZকর্ণফুলী, চট্টগ্রাম+৮৮০ ২৪১৩৫০২৪৪
BEPZA Economic Zoneমিরসরাই, চট্টগ্রাম+৮৮০ ২২২৩৩৬৫৩২৬

BEPZA প্রধান কার্যালয়: BEPZA Complex, House ১৯/D, Road ৬, Dhanmondi R/A, Dhaka ১২০৫। প্রধান অফিসের একাধিক ফোন BEPZA Contact পেজে আছে। শ্রমিক অভিযোগের জন্য আগে ১৬১২৮ বা নিজের জোন অফিস ব্যবহার করাই সহজ।

অভিযোগ করার পর কী করবেন?

  1. অভিযোগের কপি, রেজিস্ট্রি রসিদ, গ্রহণ সিল ও অনলাইন ট্র্যাকিং আলাদা ফোল্ডারে রাখুন।
  2. তারিখভিত্তিক একটি ডায়েরি রাখুন—কে, কবে, কী বলেছে লিখুন।
  3. ফোন নম্বর বদলালে লিখিতভাবে নতুন নম্বর জানান।
  4. শুনানির নোটিশ পেলে সময়মতো যান; যেতে না পারলে কারণ লিখিতভাবে জানান।
  5. সমঝোতার আগে পাওনার হিসাব মিলিয়ে নিন এবং শর্ত পড়ে বুঝুন।
  6. টাকা পেলে রসিদে টাকা, সময় ও কোন দাবি নিষ্পত্তি হলো তা স্পষ্ট রাখুন।
  7. অভিযোগের কারণে হুমকি বা প্রতিশোধ হলে নতুন ঘটনার তারিখসহ জোন কাউন্সিলরকে জানান।
  8. আইনি সময়সীমা চলতে থাকলে প্রশাসনিক উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না।

ইপিজেড শ্রমিক অভিযোগ করার সময় সাধারণ ১০টি ভুল

  1. সংশ্লিষ্ট BEPZA জোন অফিস বা ১৬১২৮-এ অভিযোগ না জানানো;
  2. জোন অফিসের বদলে এখতিয়ারহীন অন্য দপ্তরে অভিযোগ করে সময় নষ্ট করা;
  3. হেল্পলাইন কলকে ধারা ২৮-এর লিখিত অভিযোগ ধরে নেওয়া;
  4. ৩০ দিনের সময়সীমার শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা;
  5. কারখানার ডাকনাম লেখা, কিন্তু অফিসিয়াল নাম ও জোন না লেখা;
  6. “আমার বিচার চাই” লেখা, কিন্তু ঘটনা ও প্রতিকার নির্দিষ্ট না করা;
  7. মূল কাগজ জমা দিয়ে নিজের কাছে কপি না রাখা;
  8. প্রাপ্তিস্বীকার না নিয়ে হাতে অভিযোগ দেওয়া;
  9. খালি কাগজ বা না-পড়া সমঝোতায় সই করা;
  10. সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও অসমর্থিত অভিযোগ প্রকাশ করে প্রমাণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ইপিজেড শ্রমিকের অভিযোগ নম্বর কত?

BEPZA হেল্পলাইন ১৬১২৮। IVR নির্দেশনা শুনে নিজের EPZ-এর অপশন নির্বাচন করুন।

ইপিজেডে অভিযোগ DIFE-তে করা যায়?

না। ধারা ১৬৮ অনুযায়ী BEPZA-এর অনুমতি নিয়ে DIFE পরিদর্শন করতে পারলেও EPZ শ্রমিকের অভিযোগ দেখার এখতিয়ার BEPZA-এর শিল্প সম্পর্ক বিভাগ ও EPZ শ্রম আদালতের।

কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টর কী করেন?

ইপিজেড শ্রমিকের অভিযোগ গ্রহণ, পরামর্শ, সমাধানের চেষ্টা এবং প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয় পাঠানোর দায়িত্ব পালন করেন।

ফোন করলেই কি মামলা হয়ে যায়?

না। হেল্পলাইন অভিযোগ প্রশাসনিক সহায়তার পথ। মালিককে লিখিত অভিযোগ, পুলিশের মামলা ও EPZ শ্রম আদালতের আবেদন আলাদা প্রক্রিয়া।

চাকরিচ্যুতির অভিযোগ কত দিনের মধ্যে করতে হয়?

ধারা ২৮ অনুযায়ী কারণ জানার ৩০ দিনের মধ্যে মালিককে লিখিত অভিযোগ পাঠাতে হয়। পরবর্তী ধাপেও ছোট সময়সীমা থাকতে পারে।

মালিক অভিযোগ নিতে না চাইলে কী করব?

রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়ে রসিদ রাখুন। একই সঙ্গে জোনের কাউন্সিলর কাম ইন্সপেক্টরকে কপি দিন।

EPZ শ্রম আদালত আলাদা না থাকলে কোথায় যাব?

ধারা ১৩৭ অনুযায়ী বিশেষ আদালত গঠিত না থাকলে নির্ধারিত প্রচলিত শ্রম আদালত EPZ শ্রম আদালত হিসেবে কাজ করে। সঠিক এখতিয়ার জোন অফিস বা আইনজীবীর কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।

সম্পর্কিত সহায়ক পাতা

সরকারি আইন ও তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কতা

এই লেখা সাধারণ তথ্য ও প্রাথমিক দিকনির্দেশনা। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। আইন, বিধিমালা, আদালতের এখতিয়ার, অফিসের দায়িত্ব ও ফোন নম্বর বদলাতে পারে। চাকরিচ্যুতি, বড় অঙ্কের পাওনা, সময়সীমা বা আদালতের বিষয়ে দ্রুত শ্রম আইনজীবী/সরকারি আইন সহায়তা নিন এবং প্রকাশিত গেজেটকে চূড়ান্ত উৎস ধরুন।

সম্পাদকীয় নীতি

শ্রম অধিকার-এর এই নির্দেশিকা সরকারি আইন, BEPZA-এর বর্তমান ওয়েবসাইট এবং প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য মিলিয়ে শ্রমিকের ব্যবহারযোগ্য ভাষায় প্রস্তুত ও যাচাই করা হয়েছে। কোনো সেবা ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পেজে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার অনুরোধ রইল।