ইপিজেডে কাজের দুর্ঘটনায় আহত হলে বা মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ কত হতে পারে, তা হিসাব করুন। আগে অবস্থা বেছে নিন। শুধু দরকারি ঘরগুলো দেখাবে।

আগে চিকিৎসার নথি দেখুন

স্থায়ীভাবে কাজের ক্ষমতা হারিয়েছেন কি না, তা অনুমান করবেন না।

চার ধরনের হিসাব

মৃত্যু, সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতা, আংশিক স্থায়ী অক্ষমতা ও সাময়িক অক্ষমতা।

শুধু চাকরি থাকা অবস্থায় ঘটেছে বলেই সব দুর্ঘটনা কাজের দুর্ঘটনা হয় না।
চিকিৎসকের রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিন। শুধু হাত-পা কাটা নয়, কাজের ক্ষমতার বিষয়ও দেখতে হয়।

ইপিজেডে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ কীভাবে হিসাব হয়?

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯-এর ধারা ৭৩–৭৫, প্রথম তফসিল ও পঞ্চম তফসিল অনুযায়ী এই হিসাব। কোন আঘাত স্থায়ী বা সাময়িক, তা চিকিৎসার নথি দিয়ে যাচাই করতে হবে। ক্যালকুলেটর রোগ নির্ণয় বা মালিকের দায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেয় না।

মৃত্যু ও স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা

কাজের দুর্ঘটনার আঘাতে মৃত্যু হলে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ২ লাখ টাকা। স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই নির্ধারিত ক্ষতিপূরণে চাকরির বছর গুণ করা হয় না। আগের মৃত্যুজনিত সুবিধার ধারা ১৮-এর হিসাব এটি নয়। ওই সুবিধা, অবসর পাওনা, PF বা বীমা এখানে যোগ করা হয়নি।

স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা

একটি আঘাতের ক্ষেত্রে আইনের তালিকার হার ব্যবহার হবে। যেমন: হাতের বুড়ো আঙুল হারালে তালিকার ১১ নম্বর অনুযায়ী ৩০%। হিসাব: ২,৫০,০০০ × ৩০% = ৭৫,০০০ টাকা। বুড়ো আঙুলের সঙ্গে মেটাকার্পাল হাড়ও হারালে সেটি আলাদা আঘাতের বর্ণনা ও হার; দুটি এক করে দেবেন না।

তালিকায় আঘাত না থাকলে, বা একই দুর্ঘটনায় একাধিক আঘাত হলে, “যাচাইকৃত রিপোর্ট” পথ ব্যবহার করুন। ধারা ৭৪(১)(গ) অনুযায়ী হার হবে স্থায়ীভাবে উপার্জনক্ষমতা কতটা কমেছে তার ভিত্তিতে। একাধিক জখমের অর্থ যোগ হয়, তবে ধারা ৭৪(২) অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতার অঙ্কের বেশি নয়। একই ক্ষতি দুইবার গণনা করা যাবে না। এই টুল নিজে একাধিক আঘাতের মোট হার নির্ধারণ করে না।

কিছুদিন কাজ করতে না পারলে

দুর্ঘটনায় সাময়িক অক্ষমতায় পঞ্চম তফসিলের মাসভিত্তিক হার ব্যবহার হয়: প্রথম দুই মাস পূর্ণ মজুরি, পরের দুই মাস দুই-তৃতীয়াংশ, এরপর অর্ধেক। অক্ষমতার মেয়াদ ও এক বছর—যেটি কম, সেটিই সীমা। স্বীকৃত দীর্ঘকালীন পেশাগত রোগে অর্ধেক মজুরি, সর্বোচ্চ দুই বছর।

উদাহরণ: গড় মাসিক মজুরি ১২,০০০ টাকা এবং অক্ষমতা ৩ পূর্ণ মাস হলে প্রথম দুই মাসে ২৪,০০০ ও তৃতীয় মাসে ৮,০০০; মোট ৩২,০০০ টাকা। বাড়তি দিনের অঙ্ক আনুমানিক। ধারা ৭৪(১)(ঘ)-এর চার দিনের অপেক্ষাকাল, পরিশোধ শুরুর সময় এবং ধারা ৭৪(৩)-এর আংশিক মাসের অনুপাত মিলিয়ে চূড়ান্ত অঙ্ক যাচাই করুন।

মজুরির ঘরে কী দেবেন?

ধারা ৭৫-এর মাসিক মজুরি ব্যবহার করুন। টানা অন্তত ১২ মাস চাকরি থাকলে আগের ১২ মাসের মোট প্রাপ্য মজুরি ÷ ১২। এক মাসের কম হলে একই ধরনের কাজের শ্রমিকের আগের ১২ মাসের গড় লাগে। অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০ × টানা চাকরির মোট প্রাপ্য মজুরি ÷ ওই সময়ের মোট দিন। হিসাব বিভাগ থেকে নথির অঙ্ক নিন।

ধারা ২(৩৪)-এর মজুরি শুধু বেসিক নয়। নগদ মজুরির অঙ্ক যাচাই করুন। মালিকের দেওয়া বাসস্থান বা চিকিৎসা সুবিধার মূল্য, মালিকের PF/অবসর তহবিলের চাঁদা, ভ্রমণ ভাতা এবং কাজের বিশেষ খরচ ফেরতের টাকা মজুরির সংজ্ঞা থেকে বাদ। কোন ভাতা মজুরিতে পড়ে, তা নথি দেখে মিলিয়ে নিতে হবে। চাকরিতে ১৪ দিনের বেশি অনুপস্থিতি থাকলে ধারা ৭৫-এর টানা চাকরির হিসাবও আলাদা যাচাই দরকার।

মাত্র ৩ দিন কাজ করতে না পারলে?

মৃত্যু হয়নি এবং সম্পূর্ণ বা আংশিক অক্ষমতা তিন দিনের বেশি হয়নি—এমন ক্ষেত্রে ধারা ৭৩(২)(ক)-এর দায়ের সীমা আছে। এই টুল তখন দুর্ঘটনার এই ক্ষতিপূরণ হিসাব করবে না। চিকিৎসা বা অন্য পাওনা নেই, এমন সিদ্ধান্তও দেবে না।

টাকা কে পাবেন?

জীবিত আহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ তাঁর জন্য। মৃত্যু বা আইনগত অক্ষমতায় থাকা ব্যক্তির টাকা সাধারণত ইপিজেড শ্রম আদালতে জমা ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়ায় বণ্টন হয়। ধারা ৭৩(১০) ও বিধি ১৪৪/১৪৮-এর মনোনয়ন ও সরাসরি পরিশোধের ব্যতিক্রম নথি দিয়ে যাচাই করুন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা মরদেহ বহনের খরচ মৃত্যু-ক্ষতিপূরণ থেকে কাটা যাবে না—বিধি ১৪৮(৩)।

দুর্ঘটনার দাবি কখন জানাব?

ধারা ৭৯ অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব নোটিশ এবং সাধারণভাবে দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে দাবি করার বিধান আছে; ব্যতিক্রমও আছে। সময় পার হয়েছে ধরে নিজে দাবি ছেড়ে দেবেন না। বিধি ১৫০ অনুযায়ী চিকিৎসা পরীক্ষা ও রিপোর্টের ব্যবস্থাও আছে।

রিপোর্ট কীভাবে রাখব?

হিসাবের পর “প্রিন্ট বা PDF সেভ” চাপুন। A4, Scale ১০০% এবং Headers and footers বন্ধ রাখুন। বাংলা ফন্ট প্রস্তুত হলে রিপোর্ট খুলবে।

আইনি উৎস

আপনার দেওয়া EPZ নথির ভিত্তিতে তৈরি; উৎস যাচাই ১ অক্টোবর ২০২৬। লিংক একই নথির BEPZA প্রকাশিত কপির। ফলাফল নথি মেলানোর সহায়ক, আদালতের সিদ্ধান্ত বা সব পাওনার মোট নয়। ধারা ৭৩(৮) ও চতুর্থ তফসিলের প্রযোজ্যতা, কাজের সঙ্গে সম্পর্ক ও দায়ের ব্যতিক্রম যাচাই প্রয়োজন।